আপনি কি পরিচয় হারিয়ে চতুর্থ লিঙ্গের প্রাণিতে পরিণত হয়েছেন?
.png)
আপনি কি পরিচয় হারিয়ে চতুর্থ লিঙ্গের প্রাণিতে পরিণত হয়েছেন?
- মুহাম্মাদ আল-আমিন খান
পুরুষ অথবা নারী হয়েও আপনি কি সেই পরিচয় হারিয়ে চতুর্থ লিঙ্গের প্রাণিতে পরিণত হয়েছেন? আপনার স্বভাব ও কর্মের সাথে চতুর্থ লিঙ্গের পরিচয়টা মিলিয়ে নিন। আর হ্যাঁ 'চতুর্থ লিঙ্গ' শুধু একটা ধারণা নয়, বরং বহু মানুষকে এই ক্যাটাগরিতে ফেলা যায়। তবে আগে বলি- লিঙ্গ কী? লিঙ্গ বলতে আমরা নারী ও পুরুষের শারিরীক চিহ্নকে বুঝি। লিঙ্গ প্রধানত দুই প্রকার হলেও, হিজরা লিঙ্গের সামাজিক স্বীকৃতি প্রদান জরুরী ছিলো। আর তা করা হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে। অর্থাৎ মানুষের তিন প্রকার প্রধান লিঙ্গ যা শারিরীকভাবে একটা মানুষের বাহ্যিক অবরণেও দৃশ্যমান হয়। এ লিঙ্গচিহ্ন বৈধ ও স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত যা অস্বীকার করা যায় না বা মুছে ফেলা যায় না বা বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিবর্তন করার চেষ্টা করাটাও অনুচিত ও ভুল।
এ তিন প্রকার লিঙ্গের মধ্যে নারী ও পুরুষ বাদে হিজরা সম্প্রদায়কে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসাবে অভিহিত করা হয়। এর বাইরে আমি আবিষ্কার করেছি ‘চতুর্থ লিঙ্গ’। এ চতুর্থ লিঙ্গ নারী ও পুরুষ লিঙ্গের মানুষের মধ্যে লুকায়িত থাকে, তা অবশ্য দৃশ্যমান দেহে ধরা পড়ে না। দেখতে একজন ব্যক্তিকে পুরুষ বা নারী মনে হলেও সে যে পুংলিঙ্গের বা নারীলিঙ্গের নয়, বরং চতুর্থ লিঙ্গের, তা আমি এখানে প্রমাণ করবো।
মানুষ সে যে লিঙ্গেরই হোক না কেনো, তাকে তার সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টির ‘সেরা জীব’ বলে অবিহিত করেছেন। মানুষের জন্য এর চাইতে বড় পরিচয়, এর চাইতে বড় খেতাব আর কি হতে পারে? আমরা মানুষ হিসাবে আল্লাহর দেওয়া সেই মহৎ পরিচয়কে মুছে ফেলতে চাচ্ছি। কালে কালে সেই মানুষ নিজেকে সৃষ্টির সেরা থেকে নিকৃষ্ট পশুর কাতারে নামিয়ে এনেছে।
একজন পুরুষ মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে তার দেহ ও মনের উন্নত আচরণের মধ্যে। যেমন:
১। পুরুষ যদি বিয়ে করতে না চায় বা বিয়ে করার চেষ্টায় হেলা করে তাহলে এ পুরুষ কিছুতেই পুরুষ নয়।
২। পুরুষ যদি স্ত্রীর বিশ্বাসের প্রতিক ও সন্তানের সঠিক পথ প্রদর্শক না হতে পারে তাহলে সে পুরুষ নয়।
৩। পুরুষ যদি তার মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন ও রক্ত সম্পর্ককে ভুলে যায় ও তাদের প্রতি দায়িত্বহীন আচরণ করে তাহলে সে পুরুষ নয়।
৪। পুরুষ যদি পর্নোগ্রাফী ও অশ্লীলতা দর্শন করে তাহলে সে পুরুষ নয়।
৫। পুরুষ যদি হস্তমৌথুন ও স্বকামে লিপ্ত হয় তাহলে সে পুরুষ নয়।
৬। পুরুষ যদি নারীকে সম্মান না দিয়ে বরং তাকে যৌন হয়রানি করে, ধর্ষন করে তাহলে সে পুরুষ নয়।
৭। পুরুষ যদি বিবাহবহির্ভূত প্রেম-ভালোবাসায় জড়ায়, তাহলে সে পুরুষ নয়। এই প্রেম নারীর সম্মতি সাপেক্ষে হলেও তা পুরুষত্বকে নষ্ট করে।
৮। পুরুষ যদি বিবাহপরবর্তী পরকীয়ায় জড়ায় ও অন্যের স্ত্রীকে ভাগিয়ে এনে বিয়ে করে তাহলে সে পুরুষ নয়।
৯। পুরুষ যদি আরেক পুরুষের সাথে সমকামে লিপ্ত হয় তাহলে সে পুরুষ নয়।
১০। পুরুষ যদি হারাম ও শরীরের জন্যে ক্ষতিকর খাদ্য ভক্ষণ করে এবং নেশাগ্রস্থ হয় তাহলে সে পুরুষ নয়।
১১। পুরুষ যদি পাপাচার, অন্যায় ও জুলুমের পথে অর্থ উপার্জন করে আর জেনে বুঝে অপরের অধিকার হরণ করে, জেনে বুঝে অপরের জন্য কষ্টদায়ক কাজ করে তাহলে সে পুরুষ নয়।
১২। পুরুষ যদি ন্যায়ের পথ হতে বিচ্যুত হয়, সত্য ধর্মত্যাগী হয় ও অধর্ম চর্চা করে তাহলে সে পুরুষ নয়।
১৩। পুরুষ যদি ব্যক্তিগত ও দাম্পত্য জীবনে, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে চলতে যেয়ে ভুল পথ বেছে নিয়ে নিজের উপর জুলুম করে, অন্যের উপর জুলুম করে তাহলেও সে পুরুষ নয়।
১৪। পুরুষ যদি নিজে সঠিক না বুঝে বরং অন্যের প্ররোচনায় স্ত্রীকে বিনা কারণে অথবা তার সামান্য ভুলে তাকে শারিরীক ও মানসিক প্রহার করে তাহলে সে অজাত পুরুষ।
১৫। যৌতুকের জন্যে নির্যাতনকারী পুরুষ হলো পুরুষ জাতির কলঙ্ক ও আমি তাকে কিছুতেই পুরুষ মানুষ বলতে চাচ্ছি না।
১৬. কোন নারী বা স্ত্রী ভালোবাসে না, বিয়ে করতে চায় না, তারপরও তার পিছনে ছুটে চলা, তার জন্য নিজের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলা পুরুষেরা মূলত পুরুষ নয়।
১৭. ভালো হবে না কোনদিনও এমন অবাধ্য, আর অশ্লীল স্ত্রীর সাথে সংসার করে যাওয়া ও তাকে তালাক না দেওয়া পুরুষেরা কোনদিনও পুরুষ হতে পারবে না।
উপরের ১৭ দফার একটায়ও যদি কোনো পুরুষের স্থলন ঘটে তাহলে তাকে পুরুষ মানুষ বলার সুযোগ নেই। সে কিছুতেই পুরুষ নয়। তাকে আবার ‘কাপুরুষ’ বা ‘খারাপ পুরুষ’ বলে লঘু তিরস্কার করে দায় সারারও সুযোগ নেই। সোজা কথা হলো- সে পুরুষ জাতির মধ্যে ঢুকে পড়া অনুচর। সে পুরুষ জাতির মধ্যে তার কুরক্ত ও জীবাণুর সংক্রমণ ঘটাতে চায়। তার দেহ ও তার কথা পুরুষের মতো হলেও তাকে পুরুষ ভাবা মস্ত বড় ভুল। আমি নিশ্চিত যে সে পুরুষ নয়। তার রক্ত ও দেহ-মন পরীক্ষা করালে ধরা পড়বে তার আসল লিঙ্গ পরিচয়। আমি ঠিক এ ধরণের ছদ্মবেশী ভুল মানুষকেই চতুর্থ লিঙ্গের প্রাণী বলে অভিহিত করেছি।
প্রাণিসুলভ যৌন আচরণ মানুষের দেহ-মনে রয়েছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। স্বয়ং আল্লাহ তার সৃষ্টির সেরা জীবের যৌন অধিকার প্রদান করেছেন। শুধু তা নয়, মানুষের যৌনকর্ম অবারিত করেছেন তিনি। এ কাজে তিনি অনেক পূণ্য রেখেছেন। তবে এ যৌনকর্ম হতে হবে বৈধ পথে। অর্থাৎ সৃষ্টির সেরার পরিচয়টা ধরে রেখেই বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে আমাদের যৌনাচারে লিপ্ত হতে হবে। বৈধ যৌনাচারে মানুষ তার জন্মগত লিঙ্গ পরিচয় অটুট রাখতে পারে। একই সাথে হয় ধর্মচর্চা। আরো পাওয়া যায় সত্যিকার যৌনসুখ। আর বিবাহবহির্ভূত ও অশ্লীল যৌনাচারে যেমন নেই প্রকৃত সুখ, তেমনি হতে হয় নরকের কীট। আবার অবৈধ যৌনাচার মানুষের যৌন জীবনকে ধীরে ধীরে সংকুচিত করে দেয়, আর বৈধ যৌনাচার যৌন জীবনকে দীর্ঘায়িত ও মধুময় করে তোলে|
যেমন ছিলেন নবী রাসূলেরা, যেমন ছিলেন নবী পত্নীরা, যেমন ছিলেন সাহাবিরা, যেমন ছিলেন পৃথিবীতে কালে কালে আসা পরহেযগার ও মহৎ ব্যক্তিরা, যাদের পদাঙ্ক আজও বিশ্বে অমলিন। আল্লাহ তায়ালা তাদের সবার উপর শান্তি বর্ষণ করুন। তারা ছিলেন প্রকৃত মানব। তারা ছিলেন নিজ নিজ লিঙ্গ পরিচয়ের প্রকৃত ধারক। তারা ছিলেন সৃষ্টির সেরা। আজ তাদের দেখানো পথ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে অনুসরণ করতে হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র যেমন: যৌনজীবন, পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে সত্য ও সুন্দরকে গ্রহণ করলেই আমরা সৃষ্টির সেরা হতে পারবো। আর আমাদের জন্মগত লিঙ্গ পরিচয়কে অটুট রাখতে পারবো। তা না হলে ভুল পথের পথিক নারী ও পুরুষকে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে- আপনারা পুরুষও নন, নারীও নন। আপনারা হলেন চতুর্থ লিঙ্গের অধিকারী মানুষরূপী হিংস্র ও ভয়ংকর পশু। এটাই আপনাদের একমাত্র ও শেষ পরিচয়।
একজন নারীর আসল ভুষণ হচ্ছে তার শালীনতা। একমাত্র শালীন আবরণে ঢাকা দেহ-মন যে নারীর রয়েছে, সেই প্রকৃত নারী। নারীর পরিচয় একমাত্র তার দেহের রূপে নয়। উত্তম গুন হলো প্রকৃত রূপ। আবার নারীর বাহ্যিক রূপ যা নারীকে চতুর্থ লিঙ্গের জানোয়ার বানাতে ভূমিকা রাখে তা মূলত অশ্লীল সাজ ও নানামুখী ভুল আচরণ-কর্মের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। তাই বলছি যে-
১। নারী যদি পোশাক পরেও তার দেহকে পুরুষের চোখ থেকে হেফাজত করতে না পারে তাহলে সে নারী নয়। আবার নারী যদি অশ্লীল সাজ ও অশ্লীল পোষাকে দেহের রূপ ফুটিয়ে তোলে তাহলেও সে নারী নয়।
২। নারী যদি বিয়ে করতে না চায় অথবা লজ্জায় বিয়ের আগ্রহ না দেখায় তাহলে সে নারী নয়।
৩। নারী যদি বিবাহপূর্বকালে প্রেমের ছলে পরপরুষের হাতে হাত রাখে তাহলে সে নারী নয়।
৪। নারী যদি বিবাববহির্ভূত যৌনতায় মজে পুরুষের হাতে তার দেহ ছেড়ে দেয় তাহলে সে নারী নয়।
৫। স্বামীকে ধোকা দিয়ে ও বোকা বানিয়ে পরপুরুষের সাথে পরকীয়ায় ডুবে থাকা নারী আসলে নারী নয়।
৬। বাপ-ভাই ও স্বামীর মান ইজ্জত ডুবিয়ে দিয়ে কোনো ভুল যদি নারী করে তাহলে সে নারী নয়।
৭। নারী তার স্বামীর নিখাদ বন্ধু, সহকর্মী, যৌনসঙ্গী ও তার সুখ-দুখের সাথী হতে না পারলে এ নারী আসলে নারী নয়।
৮। সন্তানের জন্যে অনুকরণীয় ও মমতাময়ী মা না হতে পারলে সে নারী নয়।
৯। নারী যদি পুরুষ লোক হতে চেষ্টা করে, পুরুষের বেশ ধরে, পুরুষের মতো দাপিয়ে বেড়ায় তাহলে সে তো নারীই নয়।
১০। নারী যদি সংসার ছেড়ে গৃহত্যাগী হয়, তার যাত্রা যদি হয় স্বামী-সন্তান ও পিতা-ভাইহীন পথে তাহলে এ নারী আসলেই নারী নয়।
১১। নারী যদি লোভ ও স্বার্থের বশে তার স্বামীর সৌর্য-বীর্য ধ্বংস করে তাকে নকল পুরুষ হিসাবে গড়ার ছলাবলা কৌশল নেয় তাহলে এ নারী কিছুতেই নারী হতে পারে না।
১২। নারী যদি তার স্বামীর বিশ্বাস রক্ষা ও তার প্রতি দেওয়া আমানত রক্ষা করতে না পারে তাহলে সে নারী নয়।
১৩। নারী যদি ধর্মহীন হয়, সন্তানকে পথ দেখানোর মতো বিদ্যা ও বুদ্ধিহীন হয় ও তার স্বামীর উপযুক্ত পরামর্শক না হতে পারে তাহলে সে নারী নয়।
১৪। নারী যদি নিজের ও তার মা-খালার কুবুদ্ধি গ্রহণ করে স্বামীর ভালোবাসা ও মন ভেঙ্গেচুরে তাকে নিয়ে তালাক-তালাক খেলে, তামাশা করে ও অভক্তি করে তাহলে এমন নারী তার অন্যান্য নারীদের সাথে নিয়ে স্পষ্টভাবে চতুর্থ লিঙ্গের কাতারবদ্ধ।
১৫। যৌতুকের মিথ্যা অভিযোগ এনে স্বামী ও তার বাড়ির লোকেদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা নারী হলো নারী জাতির কলঙ্ক। তাদের নারী পরিচয় নিয়ে আমি সন্দিহান।
১৬। দিনের পর দিন নির্যাতনের শিকার হয়েও কোন নারী যদি বলে এই স্বামীর হাত আমি ছাড়বো না তাহলে এ নারীর নারীত্ব নিয়েও আমার প্রশ্ন আছে। কেননা দু দিনের দুনিয়ায় নিজের অস্তিত্ব রক্ষা ও ভালো থাকার স্বার্থে কুপুরুষের সংসার ত্যাগ করে নতুন বিয়ে কোনো নারীর জন্য খারাপ কিছু নয়।
১৭। দুদিনের দুনিয়ায় শুধুমাত্র অর্থবৃত্তের লোভে স্বামী সংসার ছেড়ে নতুন বিয়ের পরিকল্পনাকারী ও তা বাস্তবায়নকারী নারী সত্যিই ভয়ংকর। এমন নারীই মূলত চতুর্থ লিঙ্গের অধিকারী।
উপরের ১৭ পয়েন্টে নারী ইতিবাচকভাবে উদ্ভাসিত হতে না পারলে তাকে নারী পরিচয় ছেড়ে আসল পরিচয়ে ফিরে আসা উচিত। নারী জাতির মধ্যে খুব অল্পই রয়েছে নারী, বাকীরা চতুর্থ লিঙ্গের প্রাণি। এরা নারীর রূপ ধরে মানুষ জাতির মধ্যে ওত পেতে রয়েছে। ছদ্মবেশী এসকল নারী অশ্লীলতা-নোংড়ামীর ধারক ও বাহক। এরা পুরুষ জাতিকে ঠকিয়ে ও প্রকৃত নারীদের ভুল পথে টেনে নেবার জন্যে ঢুকে পড়েছে মানব জাতির মধ্যে। তাদের বলছি- আপনি মা হয়েছেন, কারো স্ত্রী হয়েছেন, হয়েছেন বাবার মেয়ে, তাতে কি এসে যায়? আপনি যতোদিক দিয়েই নিজেকে নারী সাজাতে চান না কেনো, আপনি নারী নন। আপনি ও আপনারা অজাত নারী। তাই বলছি যে- নারীদের আসল লিঙ্গ পরিচয়ই তাদের সৃষ্টির সেরা বানাতে পারে। ঠিক তেমনি তারা সত্যের ধারক হলে ঘুচবে তাদের উপর পুরুষতান্ত্রিকতার কুপ্রভাবও।
রূপান্তর ও সংক্রমণ: চতুর্থ লিঙ্গ পরিচয় একজন ব্যক্তির শরীরে চিহ্নিত থাকে না। অর্থাৎ তা নারী ও পুরুষ লিঙ্গের মতো জন্মগত পরিচয় নয়। এ পরিচয় দেহ ও মনের নানা টানাপোড়েনের ফলে ধীরে ধীরে রূপান্তরের মাধ্যমে তৈরী হয়। যেমন একজন ব্যক্তির বৈবাহিক যৌন সম্পর্কে আবদ্ধ থাকার কথা। তা না করে সে যদি অবাধ যৌনচারে নিজেকে জড়ায় তাহলে তা হয়ে গেলে তার মনুষত্বের বিপরীত আচার। যা সে রূপান্তরের মাধ্যমে অর্জন করেছে। ঠিক তেমনি প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের যতো নিকৃষ্ট আচরণ ও কর্ম তা তার সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য নয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা মানুষকে মনুষত্ব ও বিবেক দিয়ে সৃষ্টির সেরা জীব বানিয়েছেন। কোনো অসত্য ও অসুন্দরকে তারা গ্রহণ করবে না। আর তা না করার পথও রয়েছে। তারপরেও যদি আমরা তা করি তাহলে ধরে নিতে হবে আমাদের এ বৈশিষ্ট্য আমরা অর্জন করেছি। এর দায় সৃষ্টিকর্তার নয়, নয় আমাদের জন্মগত লিঙ্গ পরিচয়েরও।
আর নারী ও পুরুষের এ চতুর্থ লিঙ্গে রুপান্তরের দায় চতুর্থ লিঙ্গধারী অমানুষদের। তারা আবার সংক্রমিত করছে তাদের বৈশিষ্ট্য। কঠিন ও দ্রুতগামী ভাইরাসের মতো অশ্লীলতা ও অবিচার ছড়িয়ে পড়ছে এ সমাজে। পুরুষ তার পরিচয় হারাচ্ছ, নারী তার পরিচয় হারাচ্ছে। এসকল পরিচয়হীন চতুর্থ লিঙ্গের প্রাণির মাধ্যমে উত্তম নারী-পুরুষও সংক্রমিত হচ্ছে। আমাদের এ সংক্রমণ ঠেকাতে হবে। এর উপায় হলো- চতুর্থ লিঙ্গের প্রাণিদের আলাদা করে রাখা, তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। তারপর তাদের ভাইরাসমুক্ত করা। সহীহ বুঝ ও উপযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমে তাদের আবার নারী ও পুরুষের দলে ফিরিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ সংক্রমণ ঠেকাতে হবে, তাহলে চতুর্থ লিঙ্গে নতুন নতুন নারী-পুরুষের রূপান্তর ঘটবে না।
ফিরে আসুন: নারী, পুরুষ ও হিজরা- এই তিন জন্মগত লিঙ্গ পরিচয় থেকে একজন ব্যক্তি ফিরে আসতে পারে না। তবে যেহেতু চতুর্থ লিঙ্গটা অশ্লীলতা ও অবিচারের পথ ধরে রূপান্তরিত হয়ে একজন ব্যক্তির পরিচয়ে পরিণত হয়। তাই এ পরিচয় থেকে ফিরে আসা সম্ভব। কিন্তু কিভাবে? প্রথমত নিজের দুটো পরিচয়কে উপলব্ধি করা উচিত। মানুষ সৃষ্টির সেরা ও এই মানুষ পুরুষ অথবা নারী। মহান রব নারী অথবা পুরুষ শারিরীক পরিচয়ে আমাদের ভূষিত করে সৃষ্টির সেরা বলে অভিহিত করেছেন। একই সাথে তিনি অমাদের দেহ ও মনের ক্ষুধা নিবারণের বৈধপথ বাতলে দিয়েছেন। সেই পথ অনুসরণ করলেই আমরা মানুষ হতে পারবো। তাই বলছি- ফিরে আসুন প্রকৃত পরিচয়ে।
ধরেন আপনি বিবাহ করতে পারছেন না তাই ক্ষুধার যন্ত্রণায় অবৈধ যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হয়ে গেছেন। ঠিক তার আগে আপনি কি পারতেন না বিয়ে করতে? টাকা নেই? অভিভাবকেরা বিয়ে দেননি? এ প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষা না করে বলছি- আপনি অবৈধ যৌনকর্ম করে আপনার পরিচয় হারাতে পারলেন অথচ সব বাধা অতিক্রম করে বিয়ে করতে পারলেন না। তার মানে আপনি নারী নন অথবা পুরুষও নন। আপনিই তো চতুর্থ লিঙ্গের প্রাণি!
আপনি কি অবৈধ পথে অন্যের রুজি মেরে খাচ্ছেন? আপনার দালান-কোঠা গড়তে অপরের রক্তের ঋণ কি শোধ করেছেন? এ প্রশ্নের ভালো উত্তর দিতে না পারলে আপনি পুরুষ নন। আপনি নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছেন। কি করবেন আর ওই টাকা দিয়ে? আপনি পুরুষরূপী কিন্তু চতুর্থ লিঙ্গের জানোয়ার। ঠিক এভাবে কোনো অন্যায়-অবিচার নারী-পুরুষ কারো জন্যেই শোভা পায় না। যে কোনো অন্যায় কাজ ছাড়াই বেঁচে থাকা যায়, সুখে থাকা যায়। অবৈধ যৌনাচার ছাড়াই বৈধ যৌনাচার গ্রহণ করা যায়। কৌশল জানলে বৈধ যৌনাচারেই সর্বোচ্চ সুখ পাওয়া যায়। তাহলে কেনো আমরা নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলবো?
প্রকাশক: সনেট লাইব্রেরী
ঘোষণা: আমি মুহাম্মাদ আল-আমিন খান, লেখক ও গ্রন্থকার। আমার লেখা বইসমূহ থেকে বিভিন্ন আর্টিক্যাল প্রকাশের একমাত্র ক্ষেত্র হলো এই ওয়েবসাইট (aminblog.com)। আমার লেখা বইসমূহ হলো: ১. এগারো তারিখের ইতিহাস, ২. শাশুড়ি-পুত্রবধূর লড়াই, ৩. ব্যক্তিক যৌননীতি, ৪. নিষিদ্ধ প্রেম, ৫. আপন সম্পর্ক-১, ৬. সারাহলিপি, ৭. বিয়ে ও জীবন, ৮. স্বামীর শৃঙ্খলে স্ত্রী, ৯. মানুষ ও মন, ১০. ছোট ছোট কথা, ১১. কবিতা সমগ্র, ১২. ব্যক্তিক স্বাস্থ্যনীতি, ১৩. আমার বিয়ে ও সুবর্না, ১৪. আপন সম্পর্ক-২, ১৫. সুলতানার জীবনে আমি, ১৬. সারাহ ও জারা। আরো রয়েছে…। উল্লেখিত বইসমূহ থেকে বিভিন্ন আর্টিক্যাল এই ব্লগ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সকল লেখনি লেখকের ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা, অভিজ্ঞতা ও দর্শনের ভিত্তিতে রচিত। প্রকাশিত কোন লেখনীর একটি বাক্যও অন্য কোন লেখকের লেখনী থেকে চুরি করা নয়, এআই দ্বারা জেনারেট নয়। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সকল লেখনি লেখক ও ওয়েব এডমিন মুহাম্মাদ আল-আমিন খান কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Amin Blog এর কোনো লেখনি থেকে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক কপি করে সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্য কোনো ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা যাবে না। কোনো লেখনি ভালো লাগলে ও প্রয়োজনীয় মনে হলে এই ওয়েবসাইট থেকেই তা পড়তে পারেন অথবা ওয়েব লিংক শেয়ার করতে পারেন। গুগল সার্চ থেকে দেখা গেছে যে- বহু লেখনী কতিপয় ব্যক্তি নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণরূপে কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন। ভবিষ্যতে আবারও এমনটি হলে প্রথমত গুগলের কাছে রিপোর্ট করা হবে ও দ্বিতীয়ত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কপিরাইট আইনের আওতায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে সকলের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে Amin Blog এ প্রকাশিত কোনো লেখনি আপনার ভালো না-ও লাগতে পারে, প্রয়োজনে আপনি এর সমালোচনা কমেন্টের মাধ্যমে করতে পারেন। বাক স্বাধীনতা, চিন্তার বহিঃপ্রকাশ করার অধিকার ও লেখালেখি করার অভ্যাসের জায়গা থেকে লেখক ও সম্পাদক যা ইচ্ছা তাই লিখতে পারেন। তবে তিনি তার যেকোনো লেখনির ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন যাতে করে শালীনতা বজায় রাখা যায় এবং অন্যের ধর্মীয় অনুভূতি, মূল্যবোধ ও অধিকারের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা যায়।
- মুহাম্মাদ আল-আমিন খান
Comments
Post a Comment