.png)
- মুহাম্মাদ আল-আমিন খান
যে নারী বিয়ের আগে অবৈধ ভাবে ও বিয়ের পরে বৈধ একক স্বামীসঙ্গের মাধ্যমে বা একাধিক বিবাহের মাধ্যমে একাধিক পুরুষের লিঙ্গসঙ্গ পেয়েছে, সাথে যদি সে পর্নোগ্রাফি অ্যাডিক্টেড হয় ও পরকীয়াসঙ্গমে লিপ্ত হয় তাহলে তার এ জীবনে এসে কতগুলো পুংদন্ড চোখে দেখলো? এ প্রশ্নটা হয়তো লজ্জার ও অশ্লীল মনে হতে পারে আপনার কাছে। পর্নোগ্রাফি দেখে দেখে সে সংখ্যাটা হতে পারে কয়েক হাজার। তারপরেও আমি বলছি- 'শতলিঙ্গ দর্শন'! আর এই বহু লিঙ্গ দর্শনের জন্যেই একাধিক বিবাহের নারীদের মধ্য থেকেই বিপথগামী নারী বেশি পাওয়া যায়।
বিপরীতে পুরুষ মূলত প্রকৃতিগতভাবেই বহুগামী- একথা অসত্য নয়। একই সাথে আবার একাধিক স্ত্রীও একজন পুরুষ রাখতে পারে। আর নারীর জন্য তা বৈধ নয়। একটা পুরুষ পর্নোগ্রাফি দেখলেও বৈবাহিক সঙ্গীর কাছে এসে সে কাত। বীর্যপাতেই পুরুষ নাশ হয়ে যায়। পুরুষের জন্য পতিতালয় রয়েছে, মাঠে-ঘাটে দাপিয়ে বেড়ানো পুরুষ যেখানে সেখানে নারী লীলায় মেতে যাচ্ছে। পুরুষের বৈধ-অবৈধ বৈশিষ্ট্য এইতো। আর পুরুষের এইসব সহজাত মনোদৈহিক বৈশিষ্ট্য, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ফাঁকফোকর ও সমাজ স্বীকৃতির কারণে পুরুষ নানামুখী বহুগামিতাকে তার সুযোগ ও আচরণ হিসেবে গ্রন্থিত করে ফেলেছে।
তবে নারীর জন্য শতলিঙ্গ দর্শন পুরুষের মত সুযোগ নয় ও আচরণ হিসাবে সমাজও মেনে নেয় না। কিন্তু শুধু পুরুষকে বহুগামী মানসিকতার বলা হলেও, চরম সত্য হলো- প্রত্যেকটা নারীও বহুগামী মানসিকতা তার দেহ ও মনের গভীরে ধারন করে। কেননা তারও আছে দেহ। সে দেহের যৌন চাহিদা ও এ চাহিদা থেকে সৃষ্ট আকাঙ্ক্ষা পুরুষের থেকে তো কোনো অংশে কম নয় বরং তা কয়েক গুণ বেশি। তাই সুযোগ পেলে নারীর বহুগামী মানসিকতা জেগে কেনো উঠবে না? পুরুষের যেহেতু ওঠে! আর সুযোগ না থাকার পরেও সুযোগ পেলে যা হয়। যখন নারী সে সুযোগ একবার কাজে লাগিয়ে ফেলে তখন পুরুষের শাসন, ধর্ম ও সমাজের বেড়াজাল ছিন্ন করে হলেও সে এই পুরুষের সাথেই ভাসতে থাকে বাঁধভাঙ্গা যৌন জোয়ারে।
আর একজন নারীর এই বহুগামীতা ও শতলিঙ্গ দর্শন তার মন মানসিকতাকে নষ্ট করে দেয়। এমনকি শরীরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। নারীর মন ও শরীর কিভাবে শতলিঙ্গ দর্শনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা নিয়ে পরে একটু আলোচনা করব।
পুরুষ হস্তমৈথুন, পতিতাগমন, একাধিক স্ত্রীসঙ্গম, অবৈধ নারীসঙ্গম করে বীর্যপাতের মধ্য দিয়েই ঠান্ডা হয়ে যায়। ক্ষুধা মিটে যায়, আর তেমন একটা আকাঙ্ক্ষা থাকে না। কিন্তু একটা নারীর যদি শত লিঙ্গ দর্শনে মন মানসিকতা গড়ে ওঠে তাহলে সে লুচ্চা। নারীর লুচ্চামি ভয়ানক হতে পারে। নারীর লালসা বাঁধভাঙ্গা হতে পারে। নারী পর্নোগ্রাফি দেখলে, একাধিক বিবাহের মাধ্যমে স্বামীসঙ্গম, বিবাহ বহির্ভূত পরকীয়াসঙ্গম, হস্তমৈথুন করলে তার হয়তো ক্ষুধা মিটে যায় কিন্তু আকাঙ্ক্ষা মেটেনা। কেনো মেটেনা? ওই যে আগেই বললাম সমাজ, ধর্ম, আর পুরুষ কেউই তার বহুগামীতাকে মেনে নেয় না, পছন্দ করেনা, বৈধতা দেয় না। এ কারণেই সে চায়! এ কারণেই তার বহুলিঙ্গ দর্শন ও বহুলিঙ্গ সঙ্গমের আকাঙ্ক্ষা সর্বোচ্চ। তাইতো দেখা যায়- যে নারী একবার সুযোগ পেয়েছে, সে ভালো-মন্দ কিছু বাছ বিচার করতে চায় না। সে শুধু চায় বহুগামিতার সুখ। শত লিঙ্গ দর্শনে তার মনের ভিতর লালসা পুঞ্জিভূত হয়। সুযোগ পেলেই সে নিজ স্বামীর বাইরেও অন্য লিঙ্গের ছোঁয়া পেতে মরিয়া হয়ে উঠতে পারে।
তবে এখন যে কথা নিয়ে আলোচনা করবো সেটা হলো- নারীর পর্নোগ্রাফি দর্শন। ভাবলে হবে না যে শুধু পুরুষেরা পর্ণোগ্রাফি দেখে, নারীদের এ হারটা কোন অংশেই পুরুষের চেয়ে কম নয়। এই পর্নোগ্রাফি পুরুষের চেয়ে নারীকে বেশি কুপোকাত করে। কেন জানেন? ওই যে বললাম- পর্নোগ্রাফি দেখে হস্তমৈথুন করলে নারীর ক্ষুধা মেটে কিন্তু আকাঙ্ক্ষা মেটে না। কারণ এই একটা।
প্রতিটি নারীর যৌন ক্ষুধায় কাতর দেহের সুপ্ত বাসনা হল- অনেক পুরুষ একই সাথে তার দেহ নিয়ে খেলবে। শরীরের এক এক অঙ্গ নিয়ে একেক জন মেতে উঠবে। অর্থাৎ গ্রুপ সেক্স করা মেয়েদের অন্যতম এক পছন্দ। কিন্তু এই অস্বাভাবিক আচরণটা একটা নারীর মধ্যে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে যখন সে গ্রুপ সেক্স পর্নোগ্রাফি দেখে থাকে। পুংলিঙ্গ কেমন হবে, এ নিয়ে একটা ভাবনা জাগ্রত হয় যখন সে পর্নোগ্রাফি দেখে। মোটা, লম্বা বড় বড় পুংলিঙ্গ মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে। মূলত এইসব ভাবনা পর্নোগ্রাফি দেখেই তৈরি হয় মেয়েদের মনে। বিদেশি পর্ন তারকাদের সেক্স ভিডিও দেখে তারা উতালা হয়ে ওঠে। এর ফলে তারা দেশীয় বাঙালি ছেলেদের পুংলিঙ্গ নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারে না। এসব মেয়েরা ভাবে বাঙালি ছেলেরা পারে না, তাদের লিঙ্গ ছোট। এমন একটা নীতিবাচক ভাবনা মনে তৈরি হতে থাকে। অর্থাৎ পর্নোগ্রাফি দর্শনকারী প্রতিটি নারীই এমন হয় আর তারা স্বামীর ঘরে গিয়েও সুখী হতে পারে না। অথবা স্বামীর ঘরে যেয়ে পর্নোগ্রাফি দেখতে না পেরে যৌন চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। স্বামী তাতে সাড়া দিতে না পারলে ঘটে বিপত্তি। অতি সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে ডিভোর্সের কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো নারী পর্নোগ্রাফি এডিক্টেড। পর্নোগ্রাফি দেখে তার যৌন চাহিদার ধরন এতটাই ব্যতিক্রমধর্মী হয়ে উঠেছে যে সে তার সুস্থ সবল স্বামীকেও দুর্বল অক্ষম হিসেবে ভাবতে শুরু করছে। ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে দেখা গেছে এমন অভিযোগের কোন সত্যতা তার স্বামীর বেলায় সত্য নয়।
তাছাড়া এমন অনেক নারী আছে তারা সকাল বিকাল পর্নোগ্রাফি দেখে চিৎকার করতে করতে হস্তমৈথুন করে তার দেহের ভয়ানক জালা মেটাতে থাকে। গভীর রাতে, বাবা-মা ভাই বোন আপনজনের অনুপস্থিতে ফাঁকা বাসায় কিংবা টয়লেট বাথরুমে গিয়ে অথবা অন্য কোন সুযোগে সে মেতে উঠছে পর্নোগ্রাফি দেখার উত্তাল তরঙ্গে। ঘরে ঘরে স্মার্টফোন হাতে যুবতী মেয়েরা অবিবাহিত মেয়েরা ডিভোর্সি মেয়েরা এমনকি স্বামীর ঘর করছে এমন মেয়েরাও পর্নোগ্রাফির নেশায় ভয়ানক ভাবে আসক্ত। এর পরে বিবাহিত জীবনেও যদি সে পর্নোগ্রাফি এডিক্টেড স্বামী পেয়ে থাকে তাহলে এমন সকল মেয়েরা অখুশি হয় না।
অর্থাৎ একটা পুরুষ ছেলে যৌন উত্তেজনা বসত বিবাহ পূর্বকালে বা পরবর্তী সময়ে যা যা করে, ঠিক অনুরূপ বা অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ করতে পারে একটা মেয়ে। কিন্তু যে মেয়ে শতলিঙ্গ দর্শনকারী নয় অর্থাৎ পর্নোগ্রাফি, ভিডিও কল সেক্স, প্রেম, একাধিক বিবাহ, পরকীয়া এইসব বিষয়ের সাথে জড়িত নয় তারা সাধারণত এমনটি করে না। কিন্তু পুরুষ ছেলেরা স্বভাবতই তা করে থাকে। একটা নারীর বেলায় এমনটি হয় তখনই যখন সে শত লিঙ্গ দর্শনকারী হবে। এ কারণেই আমি বলে থাকি- শতলিঙ্গ দর্শনকারী নারী বেশ্যা। তাদের কোনোভাবেই একক পুরুষ দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। যদি কোন মেয়ে নিজেকে শালীন ও শান্ত রাখতে পারে তাহলে হয়তো শতলিঙ্গ দর্শনকারী হবার পরেও তার স্বামীকে দিয়ে নিজের বাঁধভাঙ্গা যৌন জোয়ার ঠেকাতে পারবে। এ থেকে বিচ্যুতি ঘটলে তার বেশ্যা হাওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই।
তাছাড়া একক স্বামী নিয়েই বেশ্যারূপী সেক্স করা যায়। অনেক পুরুষ বেশ্যারূপী, ডিভোর্সি, পরকীয়াসক্ত মেয়েদেরকে খুব পছন্দ করে, কামনা করে ও ভালোবাসে। কেননা এ ধরনের মেয়ে খুব সেক্সি। যদি আপনার স্বামী আপনার মতো সেক্সি মেয়ে পেয়ে যৌন আনন্দ পেয়ে থাকে তাহলে তাকে আপনি আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ ধন মনে করতে থাকুন। কারণ একজন ডিভোর্সী ও বেশ্যার জায়গা সাধারণ কোনো পারিবারিক কাঠামোতে হয় না। জীবনের একটা পর্যায়ে তাদের বেশ্যালয়ই ঠাঁই নিতে হয়। নিজেকে যাচাই করুন আপনার জীবনের ভুল ও যৌবনের চাহিদার মাত্রা কোন্ পর্যায়ে। এ পরিস্থিতিতে আপনি যদি এমন স্বামী পেয়ে থাকেন যে আপনাকে কামনা করে, ভালোবাসে, যে আপনাকে সংশোধন করতে চায়, যে আপনাকে ক্ষমা করতে চায়, যে আপনাকে জান্নাতের পথ দেখাতে চায়, এমন স্বামী পেলে নিজেকে মেলে ধরে স্বামীর গন্ডিবদ্ধ করে রাখুন। করতে না পারলে আপনার জন্য বেশ্যালয়, এ ছাড়া ঠিকানা নেই।
বেশ্যালয়ে কাজ না করেও ঘরে ঘরে অনেক নারী ঠিক বেশ্যা। তারা হয়তো একজন স্বামীর সাথে সংসার করে যাচ্ছে কিন্তু তাদের বেশ্যারূপী আচরণটা স্বামীকে বুঝতে হবে। আবার কিছু মেয়ে দেহ ও মনে বেশ্যারূপী মনোভাব ধারণ করুক বা না করুক যে মেয়ের অতীত ইতিহাস অবৈধ যৌনতা, পরকীয়া, পর্নোগ্রাফি- হস্তমৈথুন ও নোংরামিতে ভরপুর তারা তাদের জীবনে স্বামী চায় না। চায় শুধু সুদর্শন ও শক্তিশালী পুরুষের একটি দেহ। স্পষ্ট ভাবে বলতে গেলে তারা শুধু চায়- যৌনশক্তিতে ভরপুর একটি বড় পুংলিঙ্গ। যা বললাম এটাই চরম সত্য। এই জিনিসটা পেলে তারা যে কোন জায়গায় নিজেকে খুলে দেয়। এই জিনিসটার লোভে পড়ে তারা স্বামীর ঘর ছাড়তে পারে। এই জিনিসটার লোভে পড়ে তারা স্বামীর ঘরে থেকেও অন্য পুরুষের কাছ থেকে স্বাদ নিতে পারে।
কাজেই যারা এই ধরনের মেয়ে বিয়ে করেছেন সেই সকল পুরুষকে একটু সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের স্ত্রী যদি তার স্বামীর হুকুমের গোলামী ও বিশ্বস্ততার প্রতীক হতে না পারে তাহলে স্বামীর জন্য ভয়ানক বিপদ অপেক্ষা করছে। কোন মেয়ে যদি নিজেকে তার অতীত ইতিহাস ও বেশ্যারূপী আচরণ থেকে বের করে একক স্বামীতেই সুখী হতে চায় তাহলে তাকে ১. স্বামীর হুকুমের গোলামী করতে হবে। ২. স্বামীকে সাথে নিয়ে একমাত্র কুরআন ও হাদিসের পথে ফিরে আসতে হবে। ৩. কঠোর পর্দা প্রথা মেনে চলতে হবে। ৪. স্বামীকে ভালোবাসার নিদর্শন দেখাতে হবে। ৫. স্বামীর বিশ্বাস ও আমানত রক্ষা করতে হবে ও তার প্রমাণ দিতে হবে ৬. এখন কেবল মাত্র স্বামীর সাথেই উত্তাল, উন্মত্ত ও নোংরা যৌনতায় লিপ্ত হতে হবে, যা সে আগে করে বেড়াতো। তাহলে তা অপবিত্র ও গুনাহের কাজ হবে না। ৭. স্বামী পিছনের ইতিহাস জেনে গেলে স্বামীর কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করে ক্ষমা চাইতে হবে। ৮ জান্নাতের পথে নিয়ে যেতে স্বামীকে আহবান করতে হবে। ৯. মনের ভুলেও পূর্ব জীবনের পুরুষদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা যাবে না। ১০. এমনকি তাদের সাথে পূর্বেকার যৌন সঙ্গমের দৃশ্য মনে উঠানো যাবে না। এই দশটি জিনিস পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে অনুসরণ করুন।
দেখুন- প্রকৃতিগতভাবে নারী শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছুটা দুর্বল, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তারা ঘরে থাকে, তাদের জন্য পুরুষ পতিতালয় নেই, তাদের জন্য একাধিক বিয়ের ব্যবস্থা নেই, একই সাথে একাধিক স্বামী তারা রাখতে পারে না, এই তাদের বৈশিষ্ট্য। তখন তারা যদি পর্নোগ্রাফি হাতে পায়, একটার পর একটা ভিডিওতে একের পর এক সঙ্গম দৃশ্য যদি দেখে, যদি দেখে একটা মেয়েকে একাধিক পুরুষ সঙ্গম করছে, পর্নোগ্রাফির রগরগা আর্ট যদি একটা নারী দেখতে পায়, উশৃংখল উত্তাল যৌনকর্ম যদি দেখতে পায়, পর্নোগ্রাফির উত্তেজনাকর শব্দ যদি শুনতে পায়, তাহলে বলুন তো এ নারী কেমন করে ঠিক থাকে? এমনকি অন্য লিঙ্গ ব্যবহারের সুযোগ অর্থাৎ প্রেম-পরকীয়ার অফার আসলে সে হাতছাড়া নাও করতে পারে। কারণ- মনে হয়তো সে গেঁথে রেখেছে সেই অজানা ও বহু পুরুষের লিঙ্গস্বাদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
তাই বলছি- শতলিঙ্গ দর্শনকারী নারী খুবই ভয়ানক হতে পারে। আমাদের সমাজে অনেক নারী এই রূপ ধারণ করছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে নারীরা দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। পর্নোগ্রাফি দর্শনকারী নারীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। পর্নোগ্রাফি দেখে ও প্রেম-পরকীয়া করে বহু নারী আজ শতলিঙ্গ দর্শনকারী!
পর্নোগ্রাফি যে নারী দেখেনি, সে বুঝেনি। যে নারী একবার দেখেছে, সে আর দেখা থামাতে পারেনি। আর এখন নারীদের টার্গেট করে তাদের জন্য মানানসই ও উত্তেজনাকর পর্নোগ্রাফি তৈরি করা হচ্ছে। তাছাড়া ইন্টারনেট দুনিয়ায় প্রেম-পরকীয়া সহজলভ্য হয়ে গেছে। অবিবাহিত নারীদের পাশাপাশি ডিভোর্সি নারীরাও জড়িয়ে যাচ্ছেন এসবে একটু বেশিই। খুবই অল্প বয়স্ক কিশোরী মেয়েরাও ইন্টারনেট যৌনতায় বেশ জড়িয়ে যাচ্ছে। এমনকি বয়স্ক নারী, পুরুষ ও বয়স্ক দাম্পত্য জীবনে এসেও অনেকে যৌথভাবে নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখছেন। সঙ্গমকালে পর্নোগ্রাফি দেখা দাম্পত্য জীবনের সংখ্যাটা অনেক।
আর পর্নোগ্রাফি দর্শন ও হস্তমৈথুনের ফলে একজন নারীর দেহের কি কি ক্ষতি হতে পারে? শতলিঙ্গ দর্শন করে সে কি হস্তমৈথুন না করে পারছে? নারী-পুরুষ কারো পক্ষেই সেটা না করে সম্ভব নয়। পুরুষ দীর্ঘদিন হস্তমৈথুন করলে যেমন লিঙ্গ চুপসে যায়, ঠিক নারীর হৃষ্টপুষ্ট যোনির উপরিভাগও শুকিয়ে যায়। তাছাড়া দীর্ঘদিন লিঙ্গ ঘর্ষণের ফলেও যোনির উপরিভাগ শুকিয়ে যেতে পারে। আর পুরুষের বীর্যের রাসায়নিক ক্রিয়ায় ফলে যোনির উপরিভাগে কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করে। সতেজতা হারিয়ে যায় ও পাপড়িগুলো ভেতর থেকে বের হয়ে আসে। দীর্ঘদিন লিঙ্গ চাপ ও হস্তমৈথুনের ফলে নারীর যোনিতে এইসব পরিবর্তনগুলো দেখা যেতে পারে। তাছাড়া যৌনবাহিত রোগ (sexually transmitted disease বা STD) সাধারণত বহুগামিতার ফলেই ছড়ায়। এসটিডি যোনীমৈথুন, মুখমেহন, পায়ু সঙ্গম ইত্যাদিসহ সব ধরনের অবৈধ যৌনাচারের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে থাকে। শতলিঙ্গ দর্শনকারী নারী যৌনবাহিত নানা রোগের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলে। এমনকি তাদের জন্য মরণব্যাধি এইডস রোগ পর্যন্ত অপেক্ষা করছে। এসব জটিল ও কঠিন সব রোগ তাদের পাপের ফলও বটে। তাই তারা সুস্থ দেহ-মনের অধিকারী পুরুষদের জন্য অনিরাপদ।
আর নারীর মানসিক ক্ষতি? গবেষণায় জানা যায়- পর্নোগ্রাফি দীর্ঘদিন ধরে দেখার ফলে নারীদের জন্য বাস্তব পুরুষসঙ্গমে অর্গাজম অর্থাৎ চরম তৃপ্তি পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এ ধরনের নারীকে তার স্বামী সহজে অর্গাজম অর্থাৎ আউট করাতে পারেন না। এমনকি পুরুষসঙ্গমের পূর্বে পর্নোগ্রাফি না দেখলে উত্তেজনাও তেমন ওঠে না পর্নো আসক্ত নারীদের। পর্নোগ্রাফি দেখলে একজন নারীর যৌনাঙ্গে নয়, বরং চোখে-মুখে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ এমন রোগ যা সহজে সেরে ওঠে না। পর্ণোগ্রাফিতে নারী যা দেখে, বাস্তব শারীরিক সম্পর্কে যখন সে তা পায় না তখন সে শারীরিক ও মানসিক সুখ থেকে বঞ্চিত হয়। এমন নারীকে সহজে তার পুরুষসঙ্গী অর্থাৎ স্বামী কাবু করতে পারে না। ফলে তখন দাম্পত্য জীবনে অস্থিরতা, হতাশা ও প্রেম-পরকীয়া থেকে শুরু করে বিচ্ছেদ পর্যন্ত ঘটে যায়।
কিছু নারী আছে সত্যিই ভয়ানকভাবে পর্নোগ্রাফি অ্যাডিক্টেড। এরা পর্নোগ্রাফি দেখে অতঃপর হস্তমৈথুন করে একাই একাকে যৌন সুখ দিচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, গবেষণায় আরও ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে সেক্সটয় অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি হয়। বাংলাদেশে এগুলো ব্যবহারের বড় একটা সংখ্যা তৈরি হয়ে গেছে। তবে আমাদের দেশে ভারত-ইউরোপ-আমেরিকার মতো ব্যাপকভাবে প্রচলন হয়নি। হলেও তা প্রকাশ্যে আসেনি এখনও। ঠিক সেক্সটয়ের বিপরীতে আমাদের দেশে অনেক নারী তাদের যোনিতে বেগুনি কালারের লিঙ্গসদৃশ্য লম্বা বেগুনগুলো প্রবেশ করান। দুষ্টু ছেলেদের মুখে মুখে এটা নিয়ে মুখরোচক গল্প শোনা গেলেও বাস্তবে তার প্রমাণ পেয়েছি। গৃহস্থ ঘরের মেয়েরাও সবজি হিসেবে কিনে আনা লম্বা বেগুনগুলোতে তেল মেখে লুকিয়ে লুকিয়ে তার যোনিতে প্রবেশ করিয়ে পুংসঙ্গমের তৃপ্তি লুফে নিতে চেষ্টা করছে।
যারা এতটা উশৃংখল যৌনতায় মেতে গিয়েছেন তাদের তো আর স্বামীর প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন থাকলেও তারা ধৈর্য ধরেনি। ভবিষ্যৎ স্বামীর জন্যও তারা তাদের ক্ষুধা ও দেহকে ধরে রাখেনি। তারপরও হয়তো টিকে থাকার লড়াইয়ে, মান-সম্মানের ভয়ে, বাবা-মায়ের চাপে, দেহক্ষুধা ও জীবনের প্রয়োজনে বিয়ে করে এদের সকলেই। কিন্তু যেহেতু তারা পর্নোগ্রাফি অ্যাডিক্টেড, হস্তমৈথুন ও সেক্সটয় বা বেগুন ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলো, বিয়ের পরেও তারা আবার ওই কাজে জড়িয়ে যেতে পারে। প্রশ্ন হলো- বিয়ের পরে স্বামী থাকার পরেও কেনো?
পর্নোগ্রাফি এবং হস্তমৈথুন এমন একটি অভ্যাস যাতে কেউ একবার জড়িয়ে গেলে সে বিয়ের পরেও তা ভুলতে পারেনা। পুরুষ-নারী উভয়ের বেলায় কথাটি সত্য। আমরা মনে করি- পুরুষেরা শুধু পর্ণোগ্রাফি দেখে ও হস্তমৈথুন করে থাকে। কিন্তু তা নয়। আজকাল নারীরাও সমানতালে পর্নোগ্রাফি দেখছে ও হস্তমৈথুনের অভ্যাস রাখে। আর যদি কোন নারী বিয়ের আগে পর্নোগ্রাফি না দেখে থাকে বা ভুলবশত হয়তো একবার-দুইবার দেখেছে, তার মানে সে ঠিক আছে। হয়তো বিয়ের পরে তার আর পর্নোগ্রাফির কথা মনেই থাকবে না।
তবে যদি এমন হয় বিয়ের পরে স্বামী পর্নোগ্রাফি চালিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে দেখছেন। তখন একটা নারী স্বামীর সাথে সাথে পর্নোগ্রাফিতে অভ্যস্ত হতে শুরু করে। এমন দাম্পত্য জীবন অনেক রয়েছে। বিশেষ করে পুরুষের বিবাহ পূর্বকালে পর্নোগ্রাফি দেখার অভ্যাস থেকে তারা বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে দেখার পরিকল্পনা করে। যেহেতু পর্নোগ্রাফি যৌনতার একটা বিশেষ উপাদান, তাই স্বামীর আবদারে স্ত্রীও না বলতে পারে না। কারণ একবার দেখে সেখানে স্ত্রীও মজা পেয়ে যায়।
স্বামী-স্ত্রী দুজনের মিলনকালে পর্নোগ্রাফি তাদের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয় এটা যেমন সত্য, তেমনি দুজনেই একসাথে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। কারণ এটা এক ভয়ানক অশ্লীলতা যা হারাম। আর বৈধ দাম্পত্য সঙ্গীর সাথে পবিত্র মিলন যেখানে রয়েছে সোয়াব, সেই কাজে হারামকে জড়ানো খুব বড় পাপ। এতে ইহকাল-পরকাল দুইটাই বরবাদ হয়ে যাচ্ছে।
হতে পারে স্বামী অনুপস্থিত, তখন স্বামীর প্রতি কমিটমেন্টের অভাবে উত্তেজনাবশত স্বামীর শেখানো পথেই সে হয়তো পর্নোগ্রাফি সার্চ করছে। স্বামীকে না জানিয়েও দেখতে পারে। আবার স্বামীও অনেক সময় বলে থাকেন- তুমিও দেখো, আমিও দেখি। হয়তোবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দুইজন একসাথে দুই প্রান্ত থেকে দেখছেন। অথচ দুজন একসাথে না থাকলে তাদের কি করা উচিত কি ছিল? উচিত ছিল- দুজনের উত্তেজনা ধরে রেখে কবে দুজনের দেখা হবে সেই দিন গোনা। এতে কি হয়? দুজন দুজনের প্রতি আকর্ষণ চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়, ভালোবাসা হুড়মুড় করে বাড়তে থাকে, যখন কাছে পাওয়া যায় সুখের শেষ থাকে না। আর দুজন দুপ্রান্ত থেকে পর্নোগ্রাফি ও হস্তমৈথুন করলে কি হয়? শারীরিক-মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি এক পর্যায়ে সম্পর্ক নষ্টও হয়ে যায়।
তাছাড়া ডিভোর্সি মেয়ের প্রথম স্বামী যদি তাকে সাথে নিয়ে পর্নোগ্রাফি দেখায় অভ্যস্ত থাকে, ডিভোর্স হবার পরেই এই মেয়ের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? আবার হতে পারে ডিভোর্সি নারীর ওই আগের স্বামী নেই, নতুন সঙ্গ নেই, তাহলে খুব সহজে পর্নোগ্রাফি সঙ্গ দিতে পারে। ঠিক? এ কারণেই ডিভোর্স হবার পরে মেয়েরা আরো বেশি মাত্রায় পর্নোগ্রাফি দেখা শুরু করতে পারে। আর সাথে হস্তমৈথুন তো রয়েছেই। পর্নোগ্রাফি দেখে হস্তমৈথুনের মাধ্যমে তারা চরমপুলকের ধাপে পৌঁছে যান। এ ধরনের মেয়েকে দেখে তার বাহ্যিক চেহারা ও আচরণে কিন্তু তা বোঝা যায় না।
ডিভোর্স হবার পরে যদি দীর্ঘদিন কোনো যুবতী মেয়ে স্বামীহীন থাকে তাহলে সে মেয়ে অবশ্যই পর্নোগ্রাফি ও পরকীয়ায় জড়িয়ে যাবে, যাবেই। এ সংখ্যাটা শতকরা ১০০ ভাগ। শতকরা ০.০০০০১ ভাগ মেয়ে হয়তো এ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে ১০০জনই পরকীয়া ও অবৈধ শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাবে। তার মানে একজন মেয়েও পাওয়া যাবে না যে কিনা এভাবে স্বামীহীন অবস্থায় নিজেকে পবিত্র রাখতে পেরেছে। তবে কিছু নারী ছিলো আগের যুগে যারা স্বামী হারা হয়েও শতকষ্টে সন্তানদের আগলে বড় করে রেখে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের কষ্টের ইতিহাস শুনলে দেখলে বুক ফেটে যাবে। তারপেরও তাদের চরিত্রে কালির ফোটা পরেনি। একালেও হাতে গোনা দু-একজন আছেন। তবে তাদের খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ছেলেদের উচিত এদের বিয়ে করে নিজেকে সম্মানিত করা। এটা সত্য- ডিভোর্স হলে একটা মেয়ে এ সময় খুব নাজুক অবস্থায় থাকে। বিচ্ছেদের হতাশা ও যৌন উত্তেজনা তাদের এতটাই বেসামাল করে দেয় যে সহজেই পরকীয়া সংগমে তারা লিপ্ত হয়ে পড়ে। কাজেই ডিভোর্সের পরে দীর্ঘদিন স্বামীহীন অবস্থায় থাকা মানেই নোংরামী, অপবিত্রতা ও অশ্লীলতাকে ধারণ করার সম্ভাবনা। আমার এই সিরিয়াস কথার পরেও যদি কেউ নিজেকে পবিত্র বলে দাবি করে তাহলে সে সংখ্যাটা ১০০ জনে হয়তো ১ জন। তাই ডিভোর্স হলে বছরের পর বছর স্বামীহীন না রেখে সাথে সাথেই মেয়েদের আবারো বিয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। ফলে ১০০ জনের ১০০ জনই হয়তো পবিত্র ও সচ্চরিত্রের অধিকারী হবেন।
ডিভোর্সি মেয়ের ডিভোর্স পরবর্তী দীর্ঘ সময়ের ইতিহাস জানা যাক বা না যাক কাহিনী ঠিক ওরকমই হবে এটা মেনে নিয়ে যদি কোন পুরুষ বিয়ে করতে চায় তাহলে তাকে দুটো উদ্দেশ্য রেখে এগোতে হবে। এক হলো তার উত্তাল যৌন জীবনকে উপভোগ করা। দুই হলো তাকে সংশোধন করে জান্নাতের পথে এগিয়ে দেওয়া। আর এমন মেয়ে যদি নিজেকে নতুন স্বামীর ঘরে স্থির রেখে ক্ষমা পেতে চায় আল্লাহর, তাহলে তাকে দুটো কাজ করতে হবে। এক হলো স্বামীর বিশ্বস্ত থাকা ও দুই হলো স্বামীর হুকুমের গোলামী করা। দেখুন পুরুষ পৃথিবীতে বিচরণ করার জন্য এসেছে। পুরুষকে কখনো নারীরা হুকুমের গোলাম বানিয়ে রাখবেন না বরং স্বামীর হুকুমের গোলামী আপনারা করবেন। আর স্বামীরা অবশ্যই স্ত্রীর বিশ্বস্ততার প্রতীক হবেন। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক এ দুটো জিনিস থাকবে। শত লিঙ্গ দর্শনকারী নারীর এবং তার স্বামীর মধ্যে এ দুটো জিনিস থাকলেই কেবল সংশোধন ও নতুন ভালোবাসার পরিবেশ গড়া সম্ভব।
এ ধরনের মেয়ে যদি তার ইতিহাস ও আচরণ-অভ্যাস দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে যেয়ে পুনরাবৃত্তি করে তাহলে সে ইহকালেও সুখী হতে পারবেনা। দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে বসে পর্নোগ্রাফি দেখার প্রতি তার লোভ জাগ্রত হবে। ইচ্ছা করবে সেই আগের হস্তমৈথুন, আগের পর্নোগ্রাফি দেখা ও সেই আগের পুরুষদের সাথে বনে-জঙ্গলে ও হোটেলে লুকিয়ে লুকিয়ে যে সঙ্গম করেছিলো সেই সব সুখের কথা। তখন দ্বিতীয় স্বামীকে তার আর কি কাজে লাগবে? কোন মেয়ে যদি এমন অভ্যাসে জড়িয়ে থাকেন তাহলে বলব মাত্র দুই-এক দিন সময় আছে। এর ভিতরে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে চেইঞ্জ করে ফেলুন। শুরুতেই পর্নোগ্রাফি ও হস্তমৈথুনকে চিরদিনের জন্য ভুলে যান। আর পূর্বেকার কোন দৃশ্য মনে আনবেন না।
তাছাড়া যে কোনো নারীকেই বলছি- যারা পর্নোগ্রাফি এডিক্টেড- পর্নোগ্রাফির জায়গায় স্বামীকে জায়গা দিন। পর্নোগ্রাফি নয়, স্বামীকে দেখুন। হস্তমৈথুন নয়, স্বামীর দেহ দিয়ে মৌথুন করুন। ভুলেও যেন বিকৃত পূর্ব যৌনাচার স্বামীর ঘরে মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে। তাহলে একদিকে যেমন আপনি স্বামীকে কেন্দ্র করে সুখী হতে পারবেন না, স্বামীকে দিয়ে আপনার কোনো যৌন আকর্ষণ থাকবে না। যখন তাকে আপনি কামনা করবেন না, তখনই স্বামীর ঘরে আপনার থাকার আর প্রয়োজন হবে না। এই স্বামীও হয়তো আপনার পর্নোগ্রাফি ও হস্তমৈথুনে অ্যাডিক্টেডের বিষয়টি জানার পর আপনাকে আর কামনা করবে না। এরপর ঘটতে পারে বিচ্ছেদের মতো ঘটনা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ আপনার স্বামীকে হয়তো নতুন করে বাঁচার পথ দেখাবে, কিন্তু আপনার বাঁচার পথ চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।
কিভাবে একজন নারী পর্নোগ্রাফি ও হস্তমৈথুনের অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেন? মুক্তির উপায় কি? একটাই উপায়- 'না' বলতে হবে। দুই- আল্লাহকে ভয় করতে হবে। তিন- জড়িয়ে গেলে ফিরে আসতে হবে। আর বিবাহের পরেও কোন নারীর ভিতরে বিবাহপূর্ব কালের ওইসব জাগ্রত হলে নিজের মুখে প্রথমে জোরে একটা চপোটাঘাত করতে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ ছাড়া মুক্তির দ্বিতীয় কোনো পথ নেই। সেজদায় পড়ে কেঁদে মাটি ভেজাতে হবে। আর তা না হলে ইহকালে স্বামীহারা হতে হবে, স্বামীর কাছ থেকে তালাক পেতে হবে, স্বামীতে আর সুখ কামনা আসবে না। আর পরকালে জাহান্নামের ইন্ধন হতে হবে। সমাধান ও শাস্তি যা বললাম তা এটাই।
আর যেহেতু অভ্যাস! তাই অভ্যাস থেকে ফিরে আসার পথটা কিন্তু সহজ নয়। কি করতে হবে সেইজন্য? অবিবাহিত মেয়েদের দ্রুতই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। আর বিয়ের মাধ্যমে সে অভ্যাস দূর না হলে, স্বামীর কাছে ঘটনার বিবরণ দিয়ে হোক বা না দিয়ে হোক আত্মসমর্পণ করতে হবে। অভ্যাস চরম পর্যায়ে পৌঁছালে তার কাছে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সমাধান চাইতে হবে। কারণ মনোচিকিৎসার প্রয়োজন হয় এমন মুহূর্তে। আর যদি স্বামী এই সব শুনলে বিপদ হতে পারে কোনো নারীর, এমন আশঙ্কা থাকে তাহলে তাকে জানানোর প্রয়োজন নেই। নিজেই সমাধান বের করতে হবে অথবা স্বামীকে না জানিয়ে কোনো মনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
স্বামী যদি বন্ধুভাবাপন্ন হয় তাহলে সে হয়তো কিছু পথ দেখাতে পারে- স্বামী ও স্ত্রী নিজেরা কিছু ভিডিও তৈরি করতে পারে। যেখানে তাদের কারো মুখ দেখা যাবে না শুধু নিচের অংশ দেখা যাবে। যখনই পর্নোগ্রাফি দেখতে ইচ্ছে করবে তখন এই ভিডিও গুলো তারা দেখবে। পর্ণগ্রাফি আসক্তি নারীদের বলছি- স্বামী ও আপনার নিজের ভিডিওগুলো দেখতে দেখতে একসময় নিজের মনকে বোঝাবেন- "ভিডিও কেনো দেখব! এ দৃশ্য তো আমার ও আমার স্বামীর! তাহলে ভিডিও ছেড়ে আমরা নিজেরা একে অপরকে দেখি।" পুরুষের বেলায়ও এমন ভাবনা প্রযোজ্য। আর হস্তমৈথুনের বিপরীতে স্বামীকে দিয়ে তার হাতে দেহ মৈথুন করিয়ে নিতে পারেন। এইভাবে সিগারেটের বদলে ললিপপকে সিগারেট ভেবে টানতে পারেন।
স্বামী-স্ত্রী যারা অনেক দূরে থাকেন তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজেদের গোপন অঙ্গ দেখতে পারেন। এতে হয়তো বড় আকারের গুনাহ হবে না। তবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তৃতীয় কোনো পক্ষের হাতে তা হস্তগত হতে পারে এবং অপব্যবহার হতে পারে। গুনাহ হতে পারে তৃতীয় পক্ষের দেখার কারণে। কারণ ইন্টারনেটের এই মিডিয়ার মালিক কিন্তু আমরা নই। তবে নিজেদের ভিডিও দেখার একটা খারাপ প্রভাব আছে। তখন হতে পারে ভিডিও না দেখলে উত্তেজনা আর আসবে না। সকল মজা ওই পর্নো ভিডিও দেখার মধ্যে চলে যেতে পারে। দাম্পত্য সঙ্গীকে দর্শনেও উত্তেজনা আসবে না, সেই মাত্রায় সুখ আসবে না।
কাজেই যৌনতার জন্য দাম্পত্যসঙ্গীর পারস্পরিক দেহই শুধু ব্যবহার করতে হবে। পর্নোগ্রাফি দর্শন করা থেকে বিরত থাকতে হবে, দেখতে হবে সঙ্গীর দেহকে। হস্তমৈথুন নয়, সঙ্গীকে দিয়ে দেহ মৈথুন করাতে হবে। এর বাইরে অন্য কোন উপাদান ব্যবহার করার পরিণতি স্বাভাবিক যৌন জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে। গবেষণা বলছে- দাম্পত্য সঙ্গীর দেহ ব্যতীত অন্য কোনো যৌন উপাদানের (যেমন পর্নোগ্রাফি, হস্তমৈথুন, সেক্সটয় প্রভৃতি) ব্যবহার ও অবৈধ লিঙ্গদর্শন-লিঙ্গসঙ্গমকারী নারী-পুরুষ মানসিক রোগী।
মনে রাখবেন- অবৈধ যৌনাচার সাময়িক সুখ দিলেও যৌন জীবনকে হতাশা, পাপবোধ, রোগ ও নরক যন্ত্রণা দিয়ে বিষিয়ে তোলে। আর বৈধ ও পবিত্র যৌনসঙ্গ যৌনজীবনকে সুখ, মধুময়তা, পবিত্রতা ও সুস্থতা দিয়ে উজ্জীবিত করে তোলে। তাই সর্তকতা জরুরি!
এই লেখাটির উৎসবই: ব্যক্তিক যৌননীতি/স্বামীর শৃঙ্খলে স্ত্রী
ঘোষণা: আমি মুহাম্মাদ আল-আমিন খান, লেখক ও গ্রন্থকার। আমার লেখা বইসমূহ থেকে বিভিন্ন আর্টিক্যাল প্রকাশের একমাত্র ক্ষেত্র হলো এই ওয়েবসাইট (aminblog.com)। আমার লেখা বইসমূহ হলো: ১. এগারো তারিখের ইতিহাস, ২. শাশুড়ি-পুত্রবধূর লড়াই, ৩. ব্যক্তিক যৌননীতি, ৪. নিষিদ্ধ প্রেম, ৫. আপন সম্পর্ক-১, ৬. সারাহলিপি, ৭. বিয়ে ও জীবন, ৮. স্বামীর শৃঙ্খলে স্ত্রী, ৯. মানুষ ও মন, ১০. ছোট ছোট কথা, ১১. কবিতা সমগ্র, ১২. ব্যক্তিক স্বাস্থ্যনীতি, ১৩. আমার বিয়ে ও সুবর্না, ১৪. আপন সম্পর্ক-২, ১৫. সুলতানার জীবনে আমি, ১৬. সারাহ ও জারা। আরো রয়েছে…। উল্লেখিত বইসমূহ থেকে বিভিন্ন আর্টিক্যাল এই ব্লগ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সকল লেখনি লেখকের ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা, অভিজ্ঞতা ও দর্শনের ভিত্তিতে রচিত। প্রকাশিত কোন লেখনীর একটি বাক্যও অন্য কোন লেখকের লেখনী থেকে চুরি করা নয়, এআই দ্বারা জেনারেট নয়। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সকল লেখনি লেখক ও ওয়েব এডমিন মুহাম্মাদ আল-আমিন খান কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Amin Blog এর কোনো লেখনি থেকে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক কপি করে সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্য কোনো ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা যাবে না। কোনো লেখনি ভালো লাগলে ও প্রয়োজনীয় মনে হলে এই ওয়েবসাইট থেকেই তা পড়তে পারেন অথবা ওয়েব লিংক শেয়ার করতে পারেন। গুগল সার্চ থেকে দেখা গেছে যে- বহু লেখনী কতিপয় ব্যক্তি নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণরূপে কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন। ভবিষ্যতে আবারও এমনটি হলে প্রথমত গুগলের কাছে রিপোর্ট করা হবে ও দ্বিতীয়ত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কপিরাইট আইনের আওতায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে সকলের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে Amin Blog এ প্রকাশিত কোনো লেখনি আপনার ভালো না-ও লাগতে পারে, প্রয়োজনে আপনি এর সমালোচনা কমেন্টের মাধ্যমে করতে পারেন। বাক স্বাধীনতা, চিন্তার বহিঃপ্রকাশ করার অধিকার ও লেখালেখি করার অভ্যাসের জায়গা থেকে লেখক ও সম্পাদক যা ইচ্ছা তাই লিখতে পারেন। তবে তিনি তার যেকোনো লেখনির ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন যাতে করে শালীনতা বজায় রাখা যায় এবং অন্যের ধর্মীয় অনুভূতি, মূল্যবোধ ও অধিকারের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা যায়।
- মুহাম্মাদ আল-আমিন খান
.png)
.png)